x 
Empty Product

দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিঘার পর বিঘা জমিতে যেমন আম চাষ হয়, তেমনই গ্রামবাংলার গৃহস্থ বাড়িতে কয়েকটা আমগাছ থাকেই। কিন্তু এর পরিচর্যা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় কারও গাছে মুকুল আসে তো ফল হয় না, কারও আবার ফল পাকার আগেই ঝরে পড়ে যায়। আসলে ভালো আম পেতে যত্ন নিতে হবে বছরভর। এসব সমস্যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণই প্রধান। সঠিক সময়ে রোগ ও পোকামাকড় দমন করতে ব্যর্থ হলে আমের ফলন অনেক কমে যায়।

ফলের রাজা আম। দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিঘার পর বিঘা জমিতে যেমন আম চাষ হয়, তেমনই গ্রামবাংলার গৃহস্থ বাড়িতে কয়েকটা আমগাছ থাকেই। কিন্তু এর পরিচর্যা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় কারও গাছে মুকুল আসে তো ফল হয় না, কারও আবার ফল পাকার আগেই ঝরে পড়ে যায়। আসলে ভালো আম পেতে যত্ন নিতে হবে বছরভর। অন্যান্য ফলের মতো আম বাগানেও নানা সমস্যা দেখা যায়। এসব সমস্যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণই প্রধান। সঠিক সময়ে রোগ ও পোকামাকড় দমন করতে ব্যর্থ হলে আমের ফলন অনেক কমে যায়। তবে এসব রোগ ও পোকামাকড় দমনের জন্য সঠিক বালাইনাশক বা ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায়, সঠিক সময়ে, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ব্যবহার করলে আমের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

⇒ আমের হপার পোকা ও দমনব্যবস্থা :- আমের ভালো ফলন পাওয়ার জন্য পরিচর্যা শুরু করতে হবে আমবাগানে মুকুল বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই। গাছে মুকুল আসার কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ দিন আগে পুরো গাছ সাইপারমেথ্রিন বা কার্বারিল গ্রুপের যে কোনো কীটনাশক দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দিলে ভালো মুকুল আসবে। এতে গাছে বাস করা হপার বা শোষকজাতীয় পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

আশঙ্কার ব্যাপার হলো, একটি হপার পোকা দৈনিক তার দেহের ওজনের ২০ গুণ রস শোষণ করে খায় এবং দেহের অতিরিক্ত আঠালো রস মলদ্বার দিয়ে বের করে দেয়, যা মধুরস বা হানিডিউ নামে পরিচিত। এ মধুরস মুকুলের ফুল ও গাছের পাতায় জমা হতে থাকে। মধুরসে এক প্রকার ছত্রাক জন্মায়। এই ছত্রাক জন্মানোর কারণে মুকুল, ফুল ও পাতার ওপর কালো রঙের স্তর পড়ে যায়; যা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। এই পোকার আক্রমণে শুধু আমের উৎপাদনই কমে যায় না, গাছের বৃদ্ধিও কমে যেতে পারে। হপার পোকা অন্ধকার বা বেশি ছায়াযুক্ত স্থান পছন্দ করে। তাই নিয়মিতভাবে গাছের ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে, যাতে গাছের মধ্যে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে।

আমের মুকুল যখন ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার লম্বা হয় তখন একবার এবং আম যখন মটর দানার মতো আকার ধারণ করে তখন আরেকবার প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার হারে সাইপারমেথ্রিন (রিপকর্ড বা সিমবুস বা ফেনম বা এরিভো) ১০ ইসি পানিতে মিশিয়ে পুরো গাছে স্প্রে করতে হবে। আমের হপার পোকার কারণে যেহেতু সুটিমোল্ড বা ঝুল রোগের আক্রমণ ঘটে তাই রোগ দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে সালফারজাতীয় ছত্রাকনাশক কীটনাশকের সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

⇒ আমের মাছি পোকা ও দমনব্যবস্থা :- এখন দেশের সব এলাকার আমগাছে থোকা থোকা মুকুল শোভা পাচ্ছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে এমন মুকুল দেখে চাষি ভাইদের সুখের ঢেঁকুর তোলার সুযোগ নেই। কারণ আম ঘরে আসতে এখনো অনেক প্রতিকূল পরিবেশ পার করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মাছিপোকা। হ্যাঁ, আমের মাছি পোকাই মকুল ধরা থেকে আম সংগ্রহ করা পর্যন্ত আমের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। যারা ব্যাপক আকারে আম চাষ করেন তাদের জন্য এটা আরও বড় সমস্যা। কারণ তারা উৎপাদিত আমের বেশির ভাগই রপ্তানি করেন। পোকায় ধরা আম দেশেই বিক্রি করা কঠিন, রপ্তানি করা তো দূরের কথা। মাছিপোকা আক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। আম গুটি বাঁধার ৫০ থেকে ৫৫ দিন পর প্রতিটি আম কাগজ (ব্রাউন পেপার) দিয়ে মুড়িয়ে দিলে আমকে এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়। ছোট গাছের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সহজেই ব্যবহার করা যায়। আমকে এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য আমবাগানে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা যেতে পারে।

⇒ ম্যাঙ্গো উইভিল ও দমনব্যবস্থা :- আমের বাইরে খোসা দেখে মনে হয় ভেতরে কোনো সমস্যা নেই। অথচ আম পাকার পর তা কাটলে তার ভেতরে দেখা যায় পোকা কিলবিল করছে। এ পোকা একবার আমের ভেতরে ঢুকে গেলে কোনোভাবেই দমন করা সম্ভব নয়। তাই মুকুল আসার সময় এ পোকা দমন করতে হবে। যে আমগাছে একবার ওই পোকা দেখা যাবে সে গাছে প্রতিবছরই এ পোকার আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি আশপাশের আরও আমগাছে এ পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। এ পোকা দমন করতে হবে মুকুল ধরার আগে কিংবা মুকুল ধরার সময়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো  আমের ত্বকে কোনো ছিদ্র থাকে না। এত বড় পোকা কীভাবে আমের ভেতর ঢোকে এবং বেঁচে থাকে তা সত্যিই অবাক করার মতো। আমের যখন মুকুল আসে, তখন এ পোকা মুকুলে ডিম পাড়ে। মুকুল থেকে কচি আম হওয়ার সময় ফুলের ভেতরই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়ে কচি আমের ভেতর আস্তে আস্তে ঢাকা পড়ে। আমের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর ভেতরের পোকাও বড় হতে থাকে। পোকাগুলো দিন দিন বেড়ে ওঠে আম খেয়ে। সাধারণত মুকুল ধরার সময় তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা একটু বেশি এবং উচ্চ আর্দ্রতা থাকলে এ পোকা আক্রমণ করার আশঙ্কা বেশি থাকে। আমের ভেতর পোকা ঢুকে গেলে দমনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এটি দমনের জন্য প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১৫ মিলিলিটার ম্যালাথিয়ন বা সুমিথিয়ন মিশিয়ে মুকুল ধরার সময় মুকুলে স্প্রে করতে হবে। অথবা ৩০ মিলিলিটার ডায়াজিনন বা ১৫ মিলিলিটার ডাইমেক্রন প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে মুকুলে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়া আমগাছের নিচে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডিমের গাদা নষ্ট করতে হবে। আক্রান্ত আমগাছের নিচে পড়ে থাকা পাতা ও মুকুল পুড়িয়ে ফেলতে হবে। মুকুল ধরার সময় এলাকার সব আক্রান্ত গাছে একসঙ্গে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। অন্যথায় যে গাছে স্প্রে করা হবে না, সেই গাছে অন্যগাছ থেকে পোকা আক্রমণ করবে।

⇒ পাউডারি মিলডিউ রোগ ও দমনব্যবস্থা :- পাউডারি মিলডিউ এক ধরনের মারাত্মক রোগ। আমাদের দেশে এ রোগের আক্রমণ প্রতিবছর দেখা না গেলেও কোনো কোনো বছর অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করলে রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করে। এটির আক্রমণ প্রধানত আমের মুকুল ও কচি আমে প্রকাশ পায়। প্রথমে আমের মুকুলের শীর্ষ প্রান্তে সাদা বা ধূসর বর্ণের পাউডারের আবরণ দেখা যায় এবং পরে কচি পাতাতেও রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই পাউডার হচ্ছে ছত্রাক ও তার বীজকণার সমষ্টি। হালকা বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এ রোগের জীবাণুর ব্যাপক উৎপাদনে সহায়তা করে। প্রতিকারের জন্য মুকুল আসার সময় প্রতিদিন (বিশেষ করে মেঘলা আবহাওয়াযুক্ত দিনে) আমগাছ পর্যবেক্ষণ করতে হবে মুকুলে পাউডারি মিলডিউ রোগ দেখা দিয়েছে কিনা। রোগের লক্ষণ দেখা দিলেই সালফারযুক্ত যে কোনো ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে ভালোভাবে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

⇒ আমের আনথ্রাকনোজ রোগ ও দমনব্যবস্থা :- আমের পাতা, কা-, মুকুলে ও ফলে এই রোগ দেখা যায়। পাতায় অনিয়মিত দাগ দেখা যায় যেগুলো পরে বাদামি থেকে কালো হয়ে বড় বড় দাগের সৃষ্টি করে এবং পাতা ঝরে যায়। মুকুলে আক্রমণ হলে মুকুল কালো হয়ে যায় এবং গুটিগুলো ঝরে পড়ে। এই রোগ দমনে মুকুল আসার আগে টিল্ট ২৫০ ইসি-০.৫ মিলিলিটার/লিটার বা ডায়থান এম ৪৫ -২ গ্রাম/লিটার স্প্রে করতে হবে। বোরডোয়াক্স মিশ্রণের ১% দ্রবণ ১০-১২ দিন পর পর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে।

⇒ আমের বোঁটা পচা রোগ ও দমনব্যবস্থা :- এটি গুটি আসার পরে হয়ে থাকে। প্রথমে বোঁটার দিকে পচন ধরে পরে পুরো ফলটি পচে গিয়ে কালো বর্ণ ধারণ করে। গাছে থাকা অবস্থায় জীবাণুটি মুক্ত অবস্থায় থাকে পরে আম সংগ্রহের পরে উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় রাখা হলে আক্রান্ত আমের পাল্পগুলো বাদামি হয়ে যায়, যা আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না। দমনব্যবস্থা হিসেবে ডায়থান এম ৪৫ অথবা বেভিসটিন (০.২%) গুটি অবস্থায় স্প্রে করতে হবে।

রোগ পোকা-মাকড় ছাড়াও নিয়মিত পরিচর্যার হিসেবে আমের ফলন বাড়াতে হলে বছরে অন্তত দুবার সুষম মাত্রায় সার দিতে হবে। সেচ দিতে হবে প্রতি মাসে একবার। অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছেঁটে দিতে ধরা। আমগাছের স্বভাব হচ্ছে প্রতি ডালে এক বছর পর পর আম ধরে। এজন্য কোনো গাছে এক বছর ফলন ভালো হলে অন্য বছর ফলন কম হয় অথবা হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

Published in ব্লগ

ফলের রাজা আম। বিঘার পর বিঘা জমিতে যেমন আম চাষ হয়, তেমনই গ্রামবাংলার গৃহস্থ বাড়িতে একটা আম গাছ থাকেই। কিন্তু এর পরিচর্যা সম্পর্কে  জ্ঞান না থাকায় কারও গাছে মুকুল আসে তো ফল হয় না, কারও আবার ফল পাকার আগেই আম পড়ে যায়। আসলে ভাল আম পেতে যত্ন নিতে হবে বছরভর।

চারা রোপণ

আমের চারা রোপণের আদর্শ সময় হল বর্ষার আগে বা পরে। শীতের সময় চারা রোপণ না করাই ভাল। চারা লাগানোর জায়গাটা বেছে আড়াই ফুটের গর্ত করে জৈব সার ৪০-৫০ কেজি ও আড়াইশো গ্রাম সিঙ্গল সুপার ফসফেট দিয়ে ভর্তি করে ১৫ দিনের মতো ফেলে রাখুন। চারা লাগানোর তিন-চার দিন আগে গর্তগুলো ব্লিচিং পাউডার দিয়ে শোধন করে নিতে হবে।

আমের বাগান

বাগান করতে চাইলে আয়তকার, বর্গাকার বা ত্রিভুজাকারে ইউনিট করে গাছগুলি লাগান। বিিভন্ন গাছের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দূরত্বে চারাগাছ লাগানো হয়। যেমন আম্রপালী, মল্লিকার মতো শঙ্কর জাতগুলির ক্ষেত্রে ৫ x ৫ মিটার দূরত্বে লাগালেই হবে। তবে হিমসাগর, ফজলির মতো দেশি জাতের ক্ষেত্রে ৮-১০ মিটার দূরত্বে লাগাতে হবে। কালবৈশাখী থেকে রক্ষা করতে হলে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এক সারি দেবদারু, কালোজাম, ঝাউ, শিশু প্রভৃতি গাছ লাগিয়ে দিন।

সার প্রয়োগের পদ্ধতি

প্রথম বছরে গাছ প্রতি ১৬০ গ্রাম ইউরিয়া, ২৫০ গ্রাম সিঙ্গল সুপার ফসফেট ও ১২৫ গ্রাম মিউরিয়েট অফ পটাশ দিন। ১০ বছরের গাছ হলে ১৬০০ গ্রাম ইউরিয়া, ২৫০০ গ্রাম সিঙ্গল সুপার ফসফেট, ১২৫০ গ্রাম মিউরিয়েট অফ পটাশ প্রয়োগ করতে হবে।  বেশি বয়সের গাছ হলে সারের পরিমাণ বাড়বে না। অণুখাদ্যের অভাবে বোরণ, মলিবডেনাম, জিঙ্ক প্রয়োগ করতে হবে। রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা পেতে প্রতি বছর ৪০-৫০ কেজি জৈব সার দিতে হবে।

আগাছা পরিষ্কার

চারা লাগানোর ১ মাস পর বাগানে হালকা চাষ দিয়ে আগাছা বেছে নিতে হবে এবং ফল সংগ্রহের পর পুরনো বাগানে এক বার চাষ দিতে হবে।

মুকুল ছাঁটাই

কলম গাছে এক-দু’বছরের মধ্যেই মুকুল এলে তা ছেঁটে দিতে হবে। এতে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত মুকুল গাছের খাবার নষ্ট করে এবং খুব কমই ফলে পরিণত হয়। ২-৫ শতাংশ হারে (২০-৫০ গ্রাম প্রতি লিটার জলে) ইউরিয়া স্প্রে করলে অতিরিক্ত মুকুল ঝরে পড়ে যায়। অক্সিন, জিব্বারেলিন এবং গাছের বৃদ্ধি নিরোধক হরমোন  বাইরে থেকে প্রয়োগ করে ভাল ফল পাওয়া যায়। বৃদ্ধি নিরোধক প্যাক্লোবুট্রাজোল প্রয়োগে প্রতি বছর ভাল ফলন পাওয়া যায়।

রোগ নিয়ন্ত্রণ

ক্ষতরোগ (অ্যানথ্রাকনোজ): এ ক্ষেত্রে পাতা, ডাল ও মুকুলের উপর গা়ঢ় বাদামি এবং পরিণত আমের খোসার উপরে কালো দাগ দেখা যায়। অপরিণত গুটি ঝরে পড়ে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অপরিণত অবস্থায় থায়োফানেট মিথাইল, পরিণত অবস্থায় ট্রাইসাইক্লোজল ১৮%+ ম্যানকোজেব ৬২ % জলে গুলে স্প্রে করুন। ট্রাইসাইক্লোজলে আমের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে।

ডাল শুকিয়ে যাওয়া, আঠা ঝরা: পুরনো গাছে অনেক সময় ডাল শুকিয়ে যায় বা আঠা ঝরে। শুকনো ডালগুলি কেটে কপার অক্সিক্লোরাইড ৫% ডব্লিউপি-এর পেস্ট কাটা অংশে লেপে দিলে ছত্রাকের আক্রমণ হবে না। আঠা ঝরলে গোটা কাণ্ডে পেস্ট লেপতে হবে।

পোকা নিয়ন্ত্রণ

কেড়ি পোকা: কচি পাতা কেটে দেয়। বিশেষত নার্সারিতে চারাগাছের খুব ক্ষতি করে। শীত কালে চারাগাছগুলির মাঝের জমিতে চাষ দিতে হবে। জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। কেটে ফেলা পাতা পুড়িয়ে দিতে হবে। কীটনাশক হিসাবে কার্বারিল ৫০% ডব্লিউপি ২.৫ গ্রাম বা কার্টাপ হাইড্রোক্লোরাইড ৫০% এসপি এক গ্রাম প্রতি লিটার জলে স্প্রে করতে হবে।

ফল ছিদ্রকারী পোকা: অনেক পোকা আমের ত্বক ফুটো করে ভেতরের শাঁস খেয়ে আঁটি পর্যন্ত পৌঁছয়। মরসুমে দু’বার এই আক্রমণ হয়। কাঁচা আমের পরে মটর দানা অবস্থায় ও মার্বেল অবস্থায়। এমনটা হলে আক্রান্ত ফলগুলি একসঙ্গে নষ্ট করতে ডাল-সহ কেটে ফেলতে হবে। কাঁচা আমের মটর দানা অবস্থায় আক্রান্ত হলে নিমঘটিত কীটনাশক (১০ মিলি প্রতি লিটার জলে) অথবা মনোক্রোটোফস ৩৬ ইসি (১.৫ মিলি প্রতি লিটার) প্রয়োগ করুন। অথবা মার্বেল অবস্থায় ডাইক্লোরোভস ৭৬%  (এক মিলি/লি), পরিণত ফল অবস্থায় সাইপারমেথ্রিন ১০ ইসি (এক মিলি/লি) জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।

ফলের মাছি: স্ত্রী পোকা ফলের ত্বকে ডিম পাড়ে। কীড়া ফলের মধ্যে ঢুকে শাঁসের ক্ষতি করে। পরে কীড়া পূর্ণাঙ্গ মাছিতে পরিণত হলে আম ফুটো করে বাইরে বেরিয়ে যায়। এর ফলে আমের ত্বকে ফুটো দাগ দেখা যায়। এর হাত থেকে রেহাই পেতে হলে বিষটোপ (২০ মিলি ম্যালাথিয়ন ৫০ % ইসি+২০০ গ্রাম ঝোলাগুড়) বিঘা প্রতি ৫-৬টি ব্যবহার করতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয়, ফেরোমেন ফাঁদ আম বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিঘা প্রতি ২-৩টি করে লাগাতে পারলে। তাহলে আর স্প্রে দিতে হয় না। 

এছাড়াও শোষক পোকা, দয়ে পোকার উৎপাত-সহ আরও নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। যে সমস্যাই হোক,  কৃষি বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রতিকার জেনে নিলে ভাল।

Published in ব্লগ
Page 1 of 10