x 
Empty Product
Monday, 10 June 2013 07:46

প্রাণের প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ড, দু’জনের কারাদণ্ড

Written by 
Rate this item
(0 votes)

চটকদার বিজ্ঞাপন আর মন ভোলানো সংলাপ দিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় প্রাণ আচার ও আমের জুসের বিজ্ঞাপনগুলোতে। কিন্তু এ প্রাণ আচার এবং আমের জুস প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও ফরমালিন; যা খেলে মানুষের প্রাণহানীসহ ফুসফুস ও কিডনিতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মেহেরপুরে গাংনী উপজেলার কাজিরপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে বিষাক্ত কেমিকেল ও ফরমালিন ব্যবহার করে আম প্রক্রিয়াজাত করণের অভিযোগে প্রাণ কোম্পানির জুনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ও স্থানীয় এজেন্টকে আটক করেছে পুলিশ।

এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আব্দুস সালাম ওই কোম্পানির দু’জনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড এবং ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, প্রাণ কোম্পানির জুনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মুরাদ হোসেন ও তাদের এজেন্ট কাজীপুর গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ মাস্টার।

এসময় প্রাণ কোম্পানির ক্রয়করা প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের আম ধ্বংস ও আমে মেশানো কেমিক্যাল ও ফরমালিন জব্দ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আব্দুস সালাম বাংলানিউজকে জানান, ১৯৬৯ সালের ও ২০০৫ সালের সংশোধনী বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ আইন এর ৬ (ক) ও ৭ ধারা মতে আটকদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে  উল্লেখিত রায় দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুস সালাম ও গাংনী উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ কাজীপুর মাঠপাড়া এলাকার আব্দুল মজিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯০ টন ফরমালিনসহ অন্যান্য কেমিক্যাল মেশানোর সময় ১৮৬টি ড্রামে ভরা অবস্থায় উদ্ধার করেন।

আব্দুস সালাম বাংলানিউজকে আরও জানান, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও আম ফরমালিন মিশিয়ে ড্রামে ভরা অবস্থায় আটক করার পর খুলনা বিভাগীয় বিএসটিআই অফিসসহ মেহেরপুর জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়।

পরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর হোসেনসহ পুলিশ প্রশাসন ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

বিএসটিআই’র খুলনা বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ ও মাঠ কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি পরীক্ষক দল পরীক্ষা করে আমের ভেতরে ১৮০ মিলিমিটার পরিমাণ ফরমালিনের উপস্থিতি পেয়েছেন। এসময় তিনি অন্যান্য ক্ষতিকারক কেমিক্যালের উপস্থিতিও পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিএসটিআই এর ঊর্ধ্বতন পরীক্ষক মাসুম বিল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, “আমের মধ্যে বিষাক্ত ফরমালিন ছাড়াও পাওয়া গেছে মারাত্মক ক্ষতিকারক কেমিক্যাল। যা খেলে মানুষের জীবন হানি ছাড়াও ফুসফুসে ও কিডনিতে নানা ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে।”

এটা ঢাকার বাইরে জেলা শহরগুলোতে একটি বড় ধরনের সফল অভিযান বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এমনিতেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, তার ওপরে আবার সাধারণ পানির সঙ্গে বিষাক্ত ফরমালিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক হুমকি সরূপ। আম পরীক্ষা করে ১৮০পিপিএম ফরমালিন পাওয়া গেছে। মোট ৮৮৭টি ড্রামে মোট ৯০ মেট্রিক টন আম সংরক্ষণ করা হয়েছেছিলো।”

অভিযুক্ত এজেন্ট আব্দুল মজিদ বাংলানিউজকে জানান, প্রাণ কোম্পানির সঙ্গে এলাকা থেকে ২০০ টন আম দেওয়ার চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তাদের সঙ্গে চুক্তি করার পর বিভিন্ন স্থান থেকে আম সংগ্রহ করে স্থানীয় লেবার দিয়ে প্রসেসিং করছি মাত্র। এসব কিছুর তদারকি করছেন প্রাণ কোম্পানির নিয়োজিত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান। এসব ফরমালিনসহ নানা ধরনের কেমিক্যাল কোম্পানির লোকজন করে থাকে।”

অভিযুক্ত কারখানার মালিক আব্দুল মজিদ দাবি করেছেন, তিনি গত ৫ মে ঢাকা গাবতলী সেন্ট্রাল মার্কেটের মামা গ্রুপ থেকে ২০০ টন সংরক্ষিত আম সরবরাহ করার জন্য চুক্তি করেন ও সে অনুযায়ী আম কেটে কেমিক্যাল মিশিয়ে সংরক্ষণ করেন। যার সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন আরএফএল কোম্পানি নাটোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।”

এদিকে কোম্পানির জুনিয়র এক্সিকিউটিভ মুরাদ হোসেন দাবি করেছেন, তারা এজেন্টদের কাছ থেকে শর্ত মোতাবেক আম কিনে থাকে।

তাহলে ড্রামে ভরে কেমিক্যাল মিশিয়ে নিচ্ছেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকেন।

জেলা প্রশাসক মাহমুদ হাসান বাংলানিউজকে বলের, “ফরমালিনসহ নানা ধরনের বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে প্রাণ কোম্পনি যেটা করেছে আমরা প্রাথমিকভাবে তাদের আইনের আওতায় এনেছি। এটা খেয়ে আমাদের দেশের শিশুসহ নানা শ্রেণীর লোকজন নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।”

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাংলানিউজকে জানান, “মানবদেহে যেখানে শূন্য টলারেন্স পরিমাণ ফরমালিন সহনীয়। সেখানে প্রাণ কোম্পানি ওই প্রক্রিয়াজাত করা আমের মধ্যে ১৮০ ভাগ ফরমালিনসহ ক্ষতিকারক বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে জন সাধারণের ক্ষতি করছে।

তিনি আরও বলেন, “এখানে খোলা আকাশের নিচে অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে অদক্ষ লোক দিয়ে ফরমালিনসহ অন্যান্য কেমিক্যাল মেশানো আম দিয়ে প্রাণ কোম্পানি আমের আচারসহ জুস তৈরি করবে। যেটা খেয়ে দেশের হাজার হাজার শিশুসহ লোকজন নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হবে। লোকজন কিডনিসহ হার্ট ও কলিজার নানা রোগে আক্রান্ত হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয়রা জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ঝড়ে পড়া আম অত্যন্ত কম মূল্যে ক্রয় করে কোম্পানির লোকজন তাদের দেওয়া ড্রামে করেই নিয়ে যাচ্ছেন প্রায় দিন। তাদের সম্পর্কে এলাকার লোকজন খোঁজ খবর নিতে গেলে স্থানীয় এজেন্ট আব্দুল মজিদের লোকজন নানা ধরনের হুমকী দিত বলেও অভিযোগ করেন তারা।

www.bdnewsroom.com,৩০মে,১৩

Read 7182 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:42

1 comment

  • Comment Link শাহীণ Sunday, 28 July 2013 16:19 posted by শাহীণ

    চিন্তা করা যায়??

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.