x 
Empty Product
Sunday, 04 February 2018 22:16

মালদহে আমচাষীদের কপালে ভাঁজ

Written by 
Rate this item
(0 votes)

মালদহ জেলার সঙ্গে যে ফলটির নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে তা হল আম। বিশেষ করে মালদার ‘ফজলি’ বিশ্বজুড়ে নাম রয়েছে। এছাড়াও গোপাল ভোগ, হিমসাগর, লক্ষ্মণভোগ, ল্যাংড়া সহ বিভিন্ন প্রজাতির গুটি আমের ব্যাপক চাষ হয় এই জেলায়। তাই এ জেলা আমের জন্য বিখ্যাত। এই অর্থকরী ফসল কার্যত বাঁচিয়ে রেখেছে জেলার অর্থনীতিকে।

বর্তমানে বিজ্ঞান সম্মতভাবে আমচাষে চাষীরা সুফল পাওয়ার ফলে আগের তুলনায় জেলায় চাষের পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে। শীত বিদায় নিতে নিতেই বাগানে আমের বোল শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এবছর শীত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ফলে আমের মুকুল ফুটতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। এরফলে আমচাষীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। বিশাল এলাকা নিয়ে এই জেলায় সর্বত্র আম চাষ হয়ে থাকে। তথাকথিত অফ ইয়ার বা ও অন ইয়ারের পার্থক্য কমতে শুরু করেছে। জেলার উত্তর অংশে অন ইয়ার হলে অনেক সময় দক্ষিণ অংশে অফ ইয়ারের মত ফলন ফলতেও দেখা যায়। তবে এবছর আমের “অন ইয়ার” রয়েছে বলে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়ার খামখেয়ালীপনার কারণে এই বছর সর্বত্র মুকুল আসতে দেরি করছে। এখনও শীত বিদায় নিতে দেরি করছে। মাঘ মাসের মাঝামাঝিতে পরিষ্কার আকাশে রোদের তেজ যত বাড়বে অর্থাৎ গরমের ভাব যত বেশি হবে, তত বেশি আমের মুকুল ফুটবে। তবে মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গেলেও দিনে গরমের ভাব সেভাবে জেলায় এখনও শুরু হয়নি। এই কারণে এখন আম চাষীদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এখনও কিছুটা সময় রয়েছে। সেই আশাতেই বেঁচে রয়েছেন জেলার আমচাষীরা। তবে লক্ষ্মণ ভোগ, ফজলি গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে। কিন্তু সব জায়গায় সমান ভাবে মুকুল ফুটতে শুরু করে নি।

জেলা উদ্যান পালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গতবছর জেলায় মোট ৩০ হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল। আমের উৎপাদন হয়েছিল ২ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এখনও বলা মুশকিল। মুকুলের অবস্থা দেখার পরেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা যাবে। গরম বাড়ার পাশাপাশি কুঁয়াশার চাদর সরে গেলে মুকুল বেরোনোর পরিমান বাড়বে। সাধারণত ২২ ডিগ্রি থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস মুকুল বেরোনোর উপযুক্ত তাপমাত্রা।

জেলার ১৫ টি ব্লকেই কমবেশি আমচাষ হয়ে থাকে। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি ফলন হয়ে থাকে ইংরেজবাজার, রতুয়া, মানিকচক, পুরাতন মালদহ, হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল, গাজোল, কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগর থানার বিভিন্ন ব্লক এলাকাগুলিতে। এদিকে মাঘ মাসের ২০ দিন সময় পেরিয়ে গেলেও শীত আর কুঁয়াশা বিদায় নেয়নি। তাই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে জেলার আমচাষীদের।

 

ইংরেজ বাজারের সুভাষ মন্ডল, কৃষিরত্ন প্রাপক তথা রতুয়ার আমচাষি লোকনাথ কুমার, মানিকচকের জালালুদ্দিন, মহসিন আলিরা জানান, “প্রতিবছর এই সময় ব্যাপক হারে আমগাছে মুকুল ধরতে দেখা যায়। কিন্তু এবছর মুকুল ফুটতে দেরি হচ্ছে। এরফলে আমরা সকলে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। তবে দিন পরিষ্কার হলে রোদের তেজ বাড়লে তখন মুকুলের পরিমান বাড়বে। সেই আশায় দিন গুনছি। দিন ভালো হলেই এবছরও রেকর্ড ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমরা আশাবাদী।”

 

Read 871 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.